মাদকাসক্তি কি ?

মাদকাসক্তি কি ?

মাদকাসক্তি কি ?মাদকাসক্তি সম্পর্কে ধারণা করতে হলে আগে আসক্তি কি বুঝতে হবে।

আসক্তি এক ধরনের “মনোদৈহিক অসুস্থতা”।

আসক্তির সহজ সংজ্ঞা:আসক্তি এক প্রকার টান, যা আমরা বারবার করি, যার উপর আমাদের অসুস্থ নির্ভরশীলতা জন্মায় এবং সর্বপরি যার উপর আমাদের কোন নিয়ন্ত্রণ থাকে না।

প্রকৃতপক্ষে খাদ্যগ্রহণ, শরীর চর্চা, প্রজনন কিংবা বিপদ থেকে বেঁচে থাকার জন্য আমরা যা করি, আমাদের মস্তিষ্ক আমাদের তা করতে উৎসাহিত করে “আনন্দের অনুভূতি” দিয়ে পুরস্কৃত করে। প্রায় দুই লক্ষ বছর ধরে এই প্রক্রিয়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

কিন্তু এখন আমরা এসব কিছু না করেই কিভাবে (যেমন ড্রাগ নিয়ে) এই পুরস্কার পাওয়া যায় তা জেনে নিয়েছি।

এই অনুভূতির সহজলভ্যতাই বারবার করার আকাঙ্ক্ষা সৃষ্টি করে, যা থেকে উৎপত্তি হয় আসক্তির।

আসক্তি প্রধানত দুই প্রকার:
১. কার্যজনিত আসক্তি – যেমন: ইলিগ্যাল সেক্স, জুয়া খেলা, গেমস খেলা, ইন্টারনেটে সময় কাটানো


২. দ্রব্য জনিত আসক্তিস্নায়ু বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে মাদকাসক্তিকেউ যদি বিনোদনের জন্য হেরোইন নেয়, কিছুদিন পরেই তার মধ্যে নিয়মিত গ্রহণের দুর্দমনীয় আকাঙ্ক্ষা জন্মে। তখন সে আর ড্রাগ না নিয়ে থাকতে পারে না।আমাদের মস্তিষ্কের Limbic System এর মাঝে “নিউক্লিয়াস একাম্বেন্স” নামক স্থানে অনেকগুলি নার্ভকোষ রয়েছে। নিঃসরণ করলে আমরা আনন্দ অনুভব করি, তাই বিজ্ঞানীরা একে Reward Centre of Brain বা “মস্তিষ্কের পুরস্কার কেন্দ্র” বলেন।

গবেষণায় (১৯৮৮ সালে ইতালির কাগলিয়ারি ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ডি কিয়ারাজিও) দেখা গেছে, ড্রাগ গ্রহণে স্বাভাবিক কাজের (যেমন খাওয়া) চেয়ে প্রায় ২ থেকে ১০ গুণ বেশি পরিমাণে ডোপামিন নিঃসৃত হয়। তাই কোন কাজ না করেই আমরা আনন্দ লাভের শর্টকাট পেয়ে যাই। মস্তিষ্ক তা ভালো করে মনে রাখে এবং পুনরায় করার জন্য তীব্রভাবে আকাঙ্ক্ষা করে।

বিজ্ঞানীরা বলেন “ড্রাগের অপব্যবহার এমন এক কাজ যা আমরা খুবই ভালোভাবে শিখে থাকি”।১৯৩০ সালে মনে করা হতো নেশা করে নৈতিকতার ত্রুটি বা ইচ্ছাশক্তির ঘাটতির জন্য। কিন্তু বর্তমানে গবেষণায় জানা গেছে, ড্রাগের আসক্তি ডায়াবেটিস বা হৃদরোগের মতই একটি মারাত্মক অসুখ যা মস্তিষ্কের গঠন ও কর্মকাণ্ডের আমূল পরিবর্তন ঘটায়।উইথড্রয়াল সিম্পটম কি?
দীর্ঘদিন ড্রাগ ব্যবহারে দেহ-মন তাতে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে। হঠাৎ ছেড়ে দিলে শরীর আবার নতুন সমন্বয় করতে হয়। তখন হাত-পা কাঁপা, হ্যালুসিনেশন, বিরক্তি, ব্যতিক্রম – এই অপ্রীতিকর অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। যেমন অ্যালকোহলের ক্ষেত্রে হাত-পা অনিয়ন্ত্রিতভাবে কাঁপতে থাকা।

আসক্তির লক্ষণঃ নেশাগ্রস্ত ব্যক্তির প্রতিটা দিন বা চিন্তাভাবনা নেশার বস্তুকে ঘিরেই থাকে। কখন পরের ডোজ নেবে, কোথা থেকে পাবে।মাদক যখন ব্যবহার করছে না, তখন উইথড্রয়াল সিম্পটম দেখা দেয় – কাঁপুনি, বিরক্তি, নেশার জন্য ব্যাকুলতা।নিজেকে নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা হারিয়ে যাওয়া।নিজের এবং আশপাশের অন্যদের শারীরিক ও মানসিক সমস্যার কথা জেনেও গুরুত্ব না দিয়ে নেশা চালিয়ে যাওয়া।

রিহ্যাবিলিটেশন বা পুনর্বাসন কেন জরুরি?বইয়ে খুব সুন্দর করে লেখা আছে – আসক্তি এক দীর্ঘস্থায়ী নিয়মিত বেড়ে ওঠা অবস্থা।

ওষুধ প্রয়োগে ওই ব্যক্তির ক্ষেত্রে উইথড্রয়াল সিম্পটম বা খিঁচুনি কাটিয়ে মাদকের টান এড়ানো সম্ভব, কিন্তু এটাই নেশা ছাড়ার জন্য যথেষ্ট নয়।

তাকে বাকি জীবনও নেশা থেকে বিরত থাকতে হবে।

এই জন্যই রিহ্যাবিলিটেশন জরুরি।পুনর্বাসন ব্যবস্থা আসক্ত ব্যক্তি যে কারণে নেশায় আচ্ছন্ন হয়েছিল, সেগুলোকে মোকাবিলা করার জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করতে সাহায্য করে।নেশা সাধারণত জীবন যাপনে নানা ধরনের সমস্যা তৈরি করে, দায়িত্ববোধের অভাব দেখা দেয়, পড়াশোনা বা কাজের ক্ষেত্রে মনোযোগ থাকে না।
টাকা-পয়সা সংক্রান্ত সমস্যা, জুয়া খেলার প্রবণতা, বিরক্তি বা এলোমেলো মানসিকতার কারণে আবার নেশা শুরু করার সম্ভাবনা থাকে।

সহায়ক গোষ্ঠী কিভাবে সাহায্য করে?
মাদকাসক্তি থেকে কাউকে সুস্থ করে তুলতে সহায়ক গোষ্ঠী দারুন কার্যকর ভূমিকা নিতে পারে।

তাদের একজন মাদকাসক্তের পক্ষে সামাজিক কলঙ্ক এক বিরাট বাধা। স

হায়ক গোষ্ঠী সেই ব্যক্তিকে আত্মবিশ্বাসের বিষয়ে সচেতন করে তুলতে সাহায্য করে।আপনার বইয়ের শেষ কথাটা দারুন লাগছে ভাই:কল্পনা: আমি আসক্ত এবং নেশা সম্পূর্ণভাবে ছেড়ে দেওয়া আমার পক্ষে অসম্ভব।
বাস্তব: সমস্যা বুঝতে পারাটা নেশা ছেড়ে দেওয়ার প্রথম ধাপ। নেশার ছেড়ে দেওয়া অসম্ভব নয়, তবে সময় সাপেক্ষ এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা, পরিবার ও বন্ধুদের সহায়তা প্রয়োজন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *