চিকিৎসার পরও কেন আবার নেশায় ফিরে যায়? পরিবারের ৩টি ভুলে সব শেষ

চিকিৎসার পরও কেন আবার নেশায় ফিরে যায়? পরিবারের ৩টি ভুলে সব শেষ

সহ-আসক্তি (Co-Addiction) কি ও কেন পরিবারের চিকিৎসাও জরুরি

প্রিয় অভিভাবক,
আপনি অনেক কষ্ট করে, টাকা খরচ করে ছেলেকে রিহ্যাবে দিলেন, সে ৩ মাস ভালো থাকলো, বাড়ি এলো, আবার ১৫ দিন পর একই অবস্থা।

আপনি ভাবছেন, “ও ভালো হবে না” বা “রিহ্যাব ভালো না”।আপনার এই ধারণাটা ভুল।

আপনার বইয়ে আপনি পরিষ্কার লিখেছেন:”মাদকাসক্তি কেবল একজন ব্যক্তির রোগ নয়, এটি একটি পারিবারিক অসুস্থতা।

একজন রিকোভারি বা সুস্থতাগামী ব্যক্তির পুনঃপতন (Relapse) ঠেকাতে পরিবারের সচেতনতা এবং সহ-আসক্তি মুক্তি অপরিহার্য।

“ছেলে একা অসুস্থ না, পুরা পরিবার অসুস্থ হয়ে যায়। একে বলে সহ-আসক্তি (Co-Addiction)।

সহ-আসক্তি কি?

পরিবার কিভাবে অসুস্থ হয়? ১. মানসিক নিয়ন্ত্রণহীনতা: আসক্ত ব্যক্তির চিন্তায় পরিবারের সদস্যরা নিজেদের আবেগ ও জীবনযাত্রার ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন।

সারাদিন শুধু ওর চিন্তা।

২. অস্বীকৃতি (Denial): পরিবার প্রায়ই মানতে চায় না যে আসক্তি একটি পারিবারিক রোগ। তারা মনে করে সমস্যাটা কেবল আসক্ত ব্যক্তির।

৩. অজ্ঞতা ও গোঁড়ামি: অনেক সময় মায়ার বশবর্তী হয়ে বা লোকলজ্জার ভয়ে নির্দিষ্ট সময়ের আগেই চিকিৎসা বন্ধ করে রোগীকে বাড়ি নিয়ে যাওয়া হয়।

এটা সবচেয়ে বড় ভুল। পরিবারের ৩ টা ভুলে ৯০% রিল্যাপ্স হয় ।

সুস্থতাগামী ব্যক্তিকে যখন পরিবার ‘বলির পাঁঠা’ বানায়, তখনই পতন ত্বরান্বিত হয়:ক)

অবাস্তব স্বপ্ন: পরিবার আশা করে রোগী ফিরে এসেই একজন ‘আদর্শ মানুষ’ হয়ে উঠবে।

৫ বছরের ক্ষতি ৫ দিনে পূরণ করবে। এই চাপে সে আবার ভেঙে পড়ে।

খ) দোষারোপের রাজনীতি: সুস্থতাগামী ব্যক্তি যখন পরিবারের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারে না, তখন তাকে আবার খোটা দেওয়া শুরু হয় –

“তোর জন্য আমাদের মান সম্মান গেছে”।

সে ভাবে, আমি তো খারাপই, তাহলে আবার নেশা করি।

গ) সহযোগিতার অভাব: পরিবার যখন রিল্যাপ্স প্রিভেনশন প্ল্যান বা প্রতিরোধ পরিকল্পনায় অংশ নেয় না,

তখন সুস্থতা বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।

আরেকটা কারণ – রোগীর নিজের ভ্রান্ত ধারণঃ স্বেচ্ছায় আসা রোগীরা ৩ টা ভুল করে:

১. নিয়ম ভঙ্গের প্রবণতা: তারা মনে করে স্বেচ্ছায় আসায় তাদের জন্য কঠোর নিয়ম বা দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা প্রযোজ্য নয়।

২. শারীরিক সুস্থতাকে সব ভাবা: আসক্তির ৯৫% হলো মানসিক।

রোগীরা শারীরিক বিষক্রিয়া কাটলেই বাসায় যেতে চায়, যা পুনঃ পতনের প্রধান কারণ।

৩ বছরের অস্বীকার: বিশেষজ্ঞদের মতে, কমপক্ষে তিন বছর একটিভ ট্রিটমেন্ট ও ফলোআপের অধীনে থাকা জরুরি।

৩/৬ মাসে কিছুই হয় না।

তাহলে সমাধান কি?

১. দুই জায়গায় চিকিৎসা লাগবে: আসক্ত ব্যক্তির জন্য মাদকাসক্তি চিকিৎসা এবং পরিবারের জন্য সহ-আসক্তি চিকিৎসা (Counseling) প্রয়োজন।

২. পরিবারকে ট্রিটমেন্টের অংশ হতে হবে: পরিবারের সদস্যদের আসক্তি প্রতিরোধ পরিকল্পনায় সরাসরি সম্পৃক্ত হতে হবে।

অভিভাবকদের জন্য শেষ কথা:
আপনার ছেলে বেঈমানি করে নাই, তার ব্রেইনের Reward System এখনো Hypo-Reward System হয়ে আছে।

সে আনন্দ অনুভব করতে পারে না, তাই পুরানো আনন্দের শর্টকাট খোঁজে। তাকে সময় দিন,

৩ বছরের প্ল্যানে থাকুন, নিজেরাও কাউন্সেলিং নিন।

– মাদকাসক্তি পারিবারিক অসুস্থতা, তাই চিকিৎসাও পারিবারিক হতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *